দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের দিন দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সামনের মাসে সুদহার কমানো নিয়ে ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অমিলে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় মূল্যবান ধাতুটির বাজার গতকাল কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে ওঠে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৫৩ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমেছে। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম।
এ বিষয়ে গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, ‘স্বর্ণের দামে বুধবারের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার থেকে দ্রুত মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় দাম কমেছে স্বর্ণের। আর সুদহার কমানো হবে কিনা এ বিষয়েও ফেডের অবস্থান স্পষ্ট নয়।’
নিউইয়র্ক ফেড প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস ও ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালারসহ কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও ট্রেজারি ইল্ড কমে আসার কারণে ডিসেম্বরে সুদহার কমানো ‘যুক্তিসংগত’ হতে পারে।
তবে তাদের এ অবস্থান ফেডের বেশ কয়েকজন আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে মেলেনি। কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে না নামা পর্যন্ত সুদহার কমানো স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী বাজার বিশ্লেষকরা ডিসেম্বরে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন।
স্পট মার্কেটে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বার্ষিক হিসাবে এটি হতে পারে ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক উত্থান।
বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম আগামী বছর আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪৫০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে ডয়চে ব্যাংক। এর আগে জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি আগামী বছর মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকরা জানান, স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে গহনা খাতে চাহিদা কমেছে। এর পরও স্থিতিশীল বিনিয়োগপ্রবাহ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত ক্রয়ের কারণে সামনের দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বছর স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ ডলার সীমার মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া ব্যাংকটি ২০২৭ সালের স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১৫০ ডলারেই অপরিবর্তিত রেখেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা আরো জানান, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দীর্ঘমেয়াদি কম সরবরাহ স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে।
স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৩ ডলার ৪ সেন্টে নেমে এসেছে। এ সময় প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ১ হাজার ৬২৪ ডলার ৭৫ সেন্টে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪১৯ ডলারে নেমে আসে।